• Wednesday, October 16, 2019

কুমিল্লায় ৩০৭ জনকে ১০৩ টাকায় পুলিশের চাকুরি দিলেন এসপি নুরুল ইসলাম

  • Jul 10, 2019

কুমিল্লায় ১০৩ টাকায় পুলিশের চাকুরি পেলেন ৩০৭ জন। যাদের মধ্যে কৃষক, রিকশাচালক, মাছ বিক্রেতা, নাইটগার্ড ও গৃহপরিচারিকার সন্তানেরাও রয়েছেন। কুমিল্লা পুলিশ লাইন্সের শহীদ আরআই এবিএম আবদুল হালিম মিলনায়তনে মঙ্গলবার নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত পুলিশ কনস্টেবলদের ফুল দিয়ে বরণ অনুষ্ঠানে এমনটায় জানালেন কুমিল্লা জেলার সুযোগ্য পুলিশ সুপার, চাঁপাইনবাবগঞ্জের কৃতি সন্তান- সৈয়দ নুরুল ইসলাম পিপিএম, বিপিএম (বার)।

মঙ্গলবার জেলা পুলিশ লাইনে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে নিয়োগপ্রাপ্তদের বাবা-মা, পরিবারের সদস্য এবং নিয়োগ বোর্ডের সদস্য লহ্মীপুর জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুুপার পন্কজ  দে, বি-বাড়িয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আলমগীর হোসেন, কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (দক্ষিণ) আবদুল্লাহ আল মামুন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (উত্তর) মো: সাখাওয়াৎ হোসেন, কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) আজিম উল আহসানসহ  জেলা পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও নগরীর বিশিষ্টজনেরা উপস্থিত ছিলেন।

উত্তীর্ণদের পরিবারের সদস্যরা পুলিশ সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলামকে জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়েন। মেধার ভিত্তিতে বিনা পয়সায় সোনার হরিণ খ্যাত এ চাকরি পেয়ে পুলিশ সুপারকে জড়িয়ে ধরে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন অধিকাংশ হতদরিদ্র পরিবারের উত্তীর্ণরা।

এবার জেলাটিতে অত্যন্ত স্বচ্ছভাবে এ নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করায় এবং মেধাবীরা পুলিশে নিয়োগ পাওয়ায় জেলার সর্বত্রই চলছে প্রশংসা।

এদিকে কথা রাখলেন পুলিশ সুপার, বিনা পয়সায় চাকরি দিয়ে পরিচয় দিলেন সততার- এমন হাজার হাজার স্ট্যাটাস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়ে পড়েছে।

কুমিল্লা জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কুমিল্লায় জেলায় এবার পুলিশের কনস্টেবল নিয়োগ প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও পুলিশের ভাবমূর্তি উজ্জল করতে বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেন পুলিশ সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলাম। সম্পূর্ণ মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে কুমিল্লা জেলায় পুলিশ কনস্টেবল পদে ৩০৭ জনকে চাকরি দিয়ে তিনি দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।

তার ঘোষিত ১০৩ টাকায় পুলিশে চাকরি পাওয়া ৩০৭ জনের মধ্যে ১৩৪ নারী ও ১৭৩ জন পুরুষ। সোমবার রাতে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিতদের নাম ঘোষণা করা হয়। এ সময় ১০৩ টাকায় চাকরি পেয়ে অনেককেই খুশিতে কান্না করতে দেখা যায়।

গত ১ জুলাই কনস্টেবল পদে অন্তত ৬ হাজার নিয়োগপ্রত্যাশী শারীরিক পরীক্ষায় অংশ নেন। সেখান থেকে ২ হাজার ৬৫৪ জনকে লিখিত পরীক্ষার জন্য মনোনীত করা হয়।

লিখিত পরীক্ষায় ২ হাজার ৬৫৪ জনের মধ্যে ৬১০ জন উত্তীর্ণ হয়েছিল। এদের মধ্যে ৪৭৯ জন পুরুষ এবং ১৪১ জন নারী।

গত শনিবার দুপুরে কুমিল্লা পুলিশ লাইনসে পুলিশ সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলাম সব অংশগ্রহণকারীর উপস্থিতিতে লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের নাম ঘোষণা করেন।

লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের শনিবারই মৌখিক পরীক্ষা নেয়া হয়। আর সোমবার রাতে ঘোষণা করা হয় চূড়ান্তভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত ৩০৭ জনের নাম।

আদর্শ সদর উপজেলার পশ্চিম মাঝিগাছা গ্রামের অভাবী সংসারের বড় সন্তান মেহেদী হাসান কুমিল্লা নগরীতে সেনিটারি মিস্ত্রির কাজ করে সংসার চালাতেন। মাত্র একশ তিন টাকায় চাকরি পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন। ফলাফল ঘোষণার পর কান্না করতে দেখে পুলিশ সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলাম তার মাথায় হাত বুলিয়ে দেন।

জেলার মুরাদনগর উপজেলার হিরারকান্দা গ্রামের সিএনজিচালক ইউনুস মিয়ার মেয়ে লিজা আক্তার, একই উপজেলার কড়ইবাড়ী গ্রামের কৃষক সোনালী মিয়ার ছেলে আশরাফুল ইসলাম সোনার হরিণ খ্যাত এ চাকরি পেয়ে মহাখুশি।

লিজা আক্তার ও আশরাফুল ইসলাম টাকার অভাবে জুতা কিনতে না পেরে সেন্ডেল পড়েই ভাইভা বোর্ডে এসেছিল।

জেলার বাঙ্গরা থানার শ্রীরামপুর গ্রামের ইদ্রিস মিয়ার মেয়ে পপি আক্তার। তার বাবা মানসিক ভারসাম্যহীন আর মা গৃহপরিচারিকার কাজ করেন। তিনি জানান, বিনাপয়সায় পুলিশের চাকরি তার জীবনের সর্বশ্রেষ্ঠ পাওয়া।

কুমিল্লা পুলিশ সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলাম জানান, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং আইজিপি স্যারের নির্দেশনা ছিল- সঠিক ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে যে কারণে সর্বোচ্চ সতর্কতার মধ্য দিয়ে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে। এর আগে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রচারের পর থেকে প্রতারক ও দালালচক্র থেকে সতর্ক থাকার জন্য জেলাব্যাপী মসজিদ ও হাটবাজারে লিফলেট বিতরণসহ মাইকিং ও নানাভাবে প্রচার-প্রচারণা চালানো হয়েছে। তিনি মনে করেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে এখন থেকেই প্রতিরোধ গড়তে হবে। এই নিয়োগ তারই একটি উৎকৃষ্ট উদাহরণ।

অনুষ্ঠানে নিয়োগপ্রাপ্তদের ফুল দিয়ে বরণ করার পর তাদেরকে দুর্নীতির বিরুদ্ধে সমস্বরে শপথবাক্য পাঠ করান এসপি নুরুল ইসলাম।