• Tuesday, May 21, 2019

বঙ্গবন্ধু, জাতীয় চার নেতা এবং জেলহত্যা দিবস

  • Nov 02, 2018

ডা.সাইফ জামান আনন্দ : 

শোকাবহ ১৫ আগস্টে বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্বাধীনতার বিপক্ষ শক্তির মদদে কিছু বিপথগামী সেনা সদস্য স্বপরিবারে হত্যা করে ইতিহাসের সবচেয়ে ঘৃণ্য ঘটনার জন্ম দেয়।

বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীরা মোস্তাক গংদের প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষ সহযোগিতায় দেশ থেকে নির্বাসিত হওয়ার পূর্বে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দী চার জাতীয় নেতাকে হত্যা করার সিদ্ধান্ত নেয়। কতিপয় সেনা কর্মকর্তা ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের অভ্যন্তরে সাবেক উপ-রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম, সাবেক প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমদ, সাবেক অর্থমন্ত্রী ক্যাপ্টেন মনসুর আলী এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ এম কামারুজ্জামানকে গুলি করে এবং বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে নির্মম হত্যা নিশ্চিত করে আরেকটি জঘন্য হত্যাকান্ডের জন্ম দেয়। 

এই হত্যাকারীরা পরে সামরিক শাসক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নিকট থেকে পরোক্ষ সহযোগিতা লাভ করে যা ইতিহাসে স্পষ্টত প্রতীয়মান। ঘাতক চক্রের মূল লক্ষ্য ছিলো বাঙালিকে নেতৃত্ব শূন্য করে বাংলাদেশকে পুনরায় পাকিস্তানের পদানত করে মুক্তিযুদ্ধের পরাজয়ের প্রতিশোধ নেয়া। এ কারণে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে বঙ্গবন্ধুকে পাকিস্তানে আটক করে রাখার পর যে চার নেতা বঙ্গবন্ধুর পক্ষে যোগ্য নেতৃত্ব দিয়ে বিজয় ছিনিয়ে আনেন সেই চার নেতাকেও বঙ্গবন্ধুর মতো নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। চরম নির্মমতা ও নিষ্ঠুরতার সাক্ষী- ৩ নভেম্বর জেলহত্যা দিবস।

দেশের আপামর জনতা যাদের নেতৃত্বে ও নির্দেশে এদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামকে এগিয়ে নিয়ে মাত্র নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে এ দেশেকে স্বাধীন করেছিল। যারা মুক্তিযুদ্ধকালে মুজিব নগর সরকারের বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালন করে এদেশের জনগণকে একত্রিত করে দেশের বিজয়ের পতাকা উঁচিয়ে ধরেছেন সেই চার নেতাকে চরম নির্মমভাবে ৩ নভেম্বরে হত্যা করা হয়।

ওই ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ১৯৯৮ সালের ১৫ অক্টোবর ২৩ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। ২০০৪ সালের ২০ অক্টোবর চারনেতা হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করেন ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালত। রায়ে পলাতক আসামি রিসালদার মোসলেহ উদ্দিন, দফাদার মারফত আলী শাহ ও দফাদার মো. আবুল হাশেম মৃধাকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ এবং ১২ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ দেয়া হয়। বিচারিক আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হলে ২০০৮ সালে হাইকোর্ট মোসলেমের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখলেও মৃত্যুদণ্ড পাওয়া দুই আসামি মারফত আলী ও হাশেম মৃধাকে খালাস দেন। এ ছাড়া যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পাওয়া ফারুক, শাহরিয়ার রশিদ, বজলুল হুদা ও একেএম মহিউদ্দিন আহমেদকেও খালাস দেন হাইকোর্ট। পরে হাইকোর্টের এ রায়ের বিরুদ্ধে সরকার আপিল করলে ২০১৩ সালের ৩০ এপ্রিল হাইকোর্টের দেয়ার রায় বাতিল করে বিচারিক আদালতের রায় বহাল রাখেন আপিল বিভাগ।

ইতিহাসের দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে এ কথা আজ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে- এদেশে একদিকে যেমন স্বাধীনতা বিরোধী মৌলবাদী শক্তি সবসময় মাথা চাঁড়া দিয়ে উঠতে চেয়েছে, জাতীর শ্রেষ্ঠ সন্তানদের রক্তের উপর দাঁড়িয়ে দেশটাকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করতে চেয়েছে ঠিক তেমন স্বাধীনতাকামী, অসাম্প্রদায়িক চেতনার বৃহৎ গোষ্ঠীর কাছে তারা বারবার পরাজয় বরণে বাধ্য হয়েছে। তাইতো মুস্তাক, রশিদ গংরা ইতিহাসের আস্তাকূড়ে নিক্ষিপ্ত হলেও জাতীয় নেতাদের ত্যাগের মহিমা চির উজ্জ্বল।

# লেখক: ডা. মো. সাইফ জামান আনন্দ (এমবিবিএস, এমফিল গবেষক)

সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শাখা