• Wednesday, October 16, 2019

চাঁপাইনবাবগঞ্জে হর্টিকালচার সেন্টারে গাছের আদলে মটরগাড়ী-ময়ূর-বিমান-হাতি

  • Oct 23, 2018

ডি এম কপোত নবী : সবুজ ম্যামলে ভরা আমাদের প্রাণের বাংলাদেশ। যেদিকেই তাকানো যায় সবুজের সমারোহ। পাখির কলতান, ফুল আর বাহারী গাছের সানিদ্ধ পেতে হলে প্রথমেই চলে আসে চাঁপাইনবাবগঞ্জ হর্টিকালচার সেন্টার। যাকে আমরা কল্যাণপুর ফার্ম নামেও চিনি জানি। হর্টিকালচার সেন্টারের উপ-পরিচালকের কার্যলয়ের সামনে যেতেই চোখে পড়বে গাছের তৈরি একটি হাতি। উপ-পরিচালক ড. মো সাইফুর রহমান দীর্ঘ তিন বছরের চেষ্টায় কয়েকটি গাছকে একত্রে লাগিয়ে একটি হাতির রুপ দিয়েছিলেন। যা ইতোমধ্যে স্থানীয় দৈনিক, অনলাইন ও জাতীয় গণমাধ্যমেও গুরুত্ব সহকারে প্রকাশিত হয়েছে। সে নেশা থেকেই বর্তমানে ড. মো সাইফুর রহমান আরো কিছু গাছ একত্র করে নতুন গাড়ী, ময়ূর ও বিমানের রুপ দিয়ে ফুটিয়ে তুলেছেন যা আজ দৃশ্যমান।

হর্টিকালচারের উপ-পরিচালক মো. সাইফুর রহমান দৈনিক আরোকিত চাঁপাইনবাবগঞ্জকে জানান, গাছ দিয়ে বিভিন্ন জিনিষের অবয়ব ফুটিয়ে তোলা নতুন নয় এখানে। বেশ কয়েক বছর আগে আমার অফিসের সামনে পুকুর পাড়ে গাছ দিয়ে হাতির আদল তৈরি করা হয়। যা ব্যাপক প্রশংশিত হয়েছে সকল মহলে। তিনি আরো জানান, এবারে মটরগাড়ী, ময়ূর ও বিমান তৈরি করতে প্রায় ২ বছরের কাছাকাছি চেষ্টায় দৃশ্যমান হয়েছে। আর কিছুদিন হলে আরো স্পস্টভাবে ফুটে উঠবে সে সব গাছের তৈরি মটরগাড়ী, ময়ূর ও বিমান। বাইরে থেকে ঘুরতে আসা আগত মানুষ এখন ভিড় জমাচ্ছে নতুন এ মটরগাড়ী, ময়ূর ও বিমান দেখতে।

 

হর্টিকালচারের উপ-পরিচালক মো. সাইফুর রহমান

হর্টিকলচারের উপ-পরিচালক মো. সাইফুর রহমান আরো জানান, ফার্মের সকলের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ও নিরলস যত্ন-আর্তির কারণে এ হর্টিকলচার সেন্টারটি সবুজে সবুজে ভরে গেছে। প্রাণ কুলে একটু নিঃস্বাস নিতে হলে অবশ্যই একবার পরিবার নিয়ে এখানে ঘুরতে আসলে এ সেন্টারের প্রেমে যে কেও পড়ে যাবেন।

পৌরসভার কল্যাণপুর এলাকায় অবস্থিত হর্টিকালচার সেন্টার বা কল্যাণপুর ফার্মে যেতে পারেন যে কেউ খুব সহজে। বাহারি ফুল আর সবুজের সমারহের মাঝে কাটানো কিছুটা সময় আপনার ছকেবাঁধা মনকে কিছুটা হলেও আন্দলিত করবে। সেন্টারের প্রধান ফটক পেরিয়েই দীর্ঘ পথ চোখে পড়বে, পথের দু ধারেই লাগানো বিভিন্ন প্রজাতির ফুল, ফল, ঔষধী গাছ আরো শোভা বাড়িয়েছে। এছাড়াও অফিস ভবনের বিভিন্ন স্থানে টবে গাছ ও ফুলের শোপিচ আরো মনোমুগ্ধকর করেছে। যা দেখে চোখ জুড়িয়ে যায়।

ময়ূর

 

এখানে প্রায় ২৫ প্রজাতির মৌসুমী ফুল রয়েছে। হর্টিকালচার সেন্টারটি ১৯৫৬ সালে কৃষি বিভাগের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, পরে ১৯৬৮ সালে বিএডিসি এর কৃষি খামার ও ১৯৭৩ সালে উদ্যান উন্নয়ন বোর্ডের উদ্যান বেজ রুপে চালু হয়। ১৯৮২ সালে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের খাদ্য শস্য উইং এর আওতাধীন হর্টিকালচার সেন্টারে রুপ লাভ করে। বর্তমানে হর্টিকালচার সেন্টারের ভেতরেই বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনিস্টিটিউট ও লাক্ষা গবেষণা কেন্দ্র নির্মাণ করা হয়েছে।