• Friday, July 19, 2019

অভিমত ॥ বিশ্ব নেতা শেখ হাসিনা

  • Nov 02, 2018

বঙ্গবন্ধু সারা বিশ্বের নেতা ছিলেন। বঙ্গবন্ধুর মেয়েও আজ বিশ্ব নেতার রোল মডেল। রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে সারা বিশ্বের মানব দরদী নেতা তিনি। এই মুহূর্তে তাঁর সমকক্ষ খুব কম। শেখ হাসিনা তার দেশের ভেতর নানা প্রতিকূলতা উপেক্ষা করে মৃত্যুকে সঙ্গী করে নির্ভয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন।

১৭ মে, ১৯৮১ আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে ৬ বছর নির্বাসিত জীবন শেষে তিনি বাংলাদেশে এলেন। বঙ্গবন্ধুর কন্যা যখন সভাপতি হলেন, তখন আওয়ামী লীগের অন্য নেতা-কর্মীরা হাফ ছেড়ে বাঁচল। কারণ আওয়ামী লীগের তখন ক্রান্তিকাল চলছিল। সে সময় জীবন নিরাপত্তাহীন জেনেও তিনি মাটি ও মানুষের কাছেই থাকতে। কাজ থেকে দেখেছি সভা-সমিতি, জনকোলাহলে তিনি আবেগপ্রবণ থাকতেন। অনেকেই তাঁকে আবেগ থেকে বেরিয়ে কর্মীদের একটু দূরে অবস্থান করতে বলতেন। হয়তো নিরাপত্তার কথা ভেবেই। কিন্তু বঙ্গবন্ধু কন্যা সেটা করতেন না। এখনও মানুষের কাছে, মানুষের পাশে তিনি। সে সময়কার আমার একটা স্মৃতির কথা বলছি, একদিন আমার চাচা (আওয়ামী লীগ যাত্রাবাড়ী ইউনিয়নের সহ-সভাপতি) আমাকে বললেন, চল আওয়ামী লীগ অফিস বঙ্গবন্ধু এভিনিউ যাই। যে কথা সে কাজ, বিকালে রৌদ্রোজ্জ্বল আকাশে তকতকে ঝরঝরা মেঘমুক্ত আকাশ বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে কোন লোকজন নেই বললেই চলে। তখনও কোন নেতা-কর্মী আওয়ামী লীগ অফিসে তখন আসেননি। আমরা চাচা-ভাতিজা ঘোরাঘুরি করছি। এমন সময় একজন অফিস সহকারী ওপর থেকে নেমে আসল, সে চাচাকে চেনে। সে বলল উপরে যান। এমন সময় পেছনে দেখলাম, জনগণের নেত্রী শেখ হাসিনা রিকশা থেকে নামছেন। সামনে গিয়ে সালাম দিলাম। দেখলাম তার মুখে হাসি হাসি ভাব দেখাচ্ছিল। আমি পেছন যেতে যেতে বললাম, আপা কেন আপনি একা রিকশায় এলেন। কথা না বলে তিনি উপরে উঠে গেলেন। পরে আমি তাকে দ্রুতই বললাম, আর আবেগ নয়। কঠোর কর্মসূচী দেবেন। আমার দিকে তাকিয়ে উপরে উঠতে শুরু করল। পেছনে আমার চাচা। উপরে উঠে দেখলাম নুরুল ইসলাম (প্রয়াত) সাহেব বসে আছেন। তার চেহারা খুবই লিক লিকে। মানুষটিকে সবাই বঙ্গবন্ধু এবং তার পরিবারের আপনজন হিসেবেই জানতো। সভানেত্রী বসলেন, এমন সময় আসল সালাউদ্দিন বাদল। ঢাকা মহানগরের কয়েকজন সদস্য এর পর আসল সাহারা আপা। নেত্রী সেখানে কিছুক্ষণ থেকে সাহারা আপার কাছে ২০০ টাকা দিয়ে বললেন এদের চা খাওয়ান। নেত্রী বলে চলে গেলেন। আমরা সবাই উঠে দাঁড়িয়ে বিদায় দিলাম। নুরুল ইসলাম সাহেবকে বললাম, আপনে বাসা থেকে আসেননি। নুরুল ইসলাম বললেন, আমাকে তো কিছুই বলা হয়নি। সাহারা আপা বললেন, এ ব্যাপারে কিছু বলার দরকার নেই। চা খেয়ে কিছু সময় থাকার পর একে একে সবাই চলে যেতে লাগল। আমি ও চাচা আসতে আসতে বললাম, কতদূর দুঃসাহসী নেত্রী একাই আসলেন। সমস্ত গোয়েন্দা সংস্থার লোকজনের চোখকে ফাঁকি দিয়ে আওয়ামী লীগের অফিসে হাজির। ঐ রাতেই পোস্তগোলায় চাচার বাসায় আরও কয়েকজন কর্মীর সঙ্গে চাচা ঘটনাটি বললেন। সবাই তো অবাক। কি করে তিনি আসলেন। আমি বললাম, তিনি দুঃসাহসী নেত্রী। তিনিই কর্মীদের বাঁচাবেন। তিনি বঙ্গবন্ধুর মেয়ে, তিনিই বাংলাদেশের মুখ ভবিষ্যতে উজ্জ্বল করবেন। সকল অত্যাচার-অনাচারের অবসান ঘটিয়ে বাংলার মানুষের সম্মান সারাবিশ্বে ছড়িয়ে দিবেন। আজ সেই সত্য প্রতিষ্ঠিত।

আজ জীবন সায়াহ্নে এসে নেত্রীকে দেখি আর ভাবি, যারা এক সময় তাঁকে ভর্ৎসনা করতেন, নেতৃত্ব নিয়ে নানা উপহাসের সুরে কথা বলতেন, বলতেন শেখ হাসিনাকে দিয়ে আওয়ামী লীগের সংগঠন চালানো সম্ভব হবে না। তারা আজ হয়তো লজ্জা পাচ্ছেন। বঙ্গবন্ধু যেমন বলতেন, তার মানুষ যাতে কষ্ট না পায়। বাংলার মানুষ দু’বেলা একমুঠো খাবার পায়, সামান্য বস্ত্র পায়, চিকিৎসা পায় এটাই তার সাধনা ছিল। বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য রক্ত আজ তার কথা রাখছেন। শেখ হাসিনার কাজই বাংলার ঘরে ঘরে বঙ্গবন্ধুর বার্তা পৌঁছে দিচ্ছে। তিনি বাংলার মানুষের খাবার দিচ্ছেন, স্বাস্থ্যসেবা, পরনের কাপড় এবং শিক্ষার সুযোগ পৌঁছে দিচ্ছেন। বঙ্গবন্ধু যেমন বিশ্বের দুর্লভ খেতাব পাওয়া শুরু করেছিলেন, তার কন্যা একইভাবে অনেক খেতাব পেয়েছেন। আজ বাংলার সুনাম বিশ্বে ছড়িয়েছে। এভাবেই এগিয়ে যাবে বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ, শেখ হাসিনার বাংলাদেশ।

লেখক :-মোঃ দলিল উদ্দিন দুলাল- মুক্তিযোদ্ধা, সাবেক কমান্ডার, ৭নং সেক্টর