• Tuesday, May 21, 2019

শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস  

  • Dec 13, 2018

ডা. মো. সাইফ জামান আনন্দ :

স্বাধীনতা বিরোধী চক্রের ভয়ংকর নীলনকশা বাস্তবায়নের প্রামাণ্য দলিল’ স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রাক্কালে শোষক পাকিস্তানি বাহিনী বুঝে গিয়েছিলো এদেশের শান্তিপ্রিয় সাধারণ মানুষকে আর শোষণের যাঁতাকলে পিষ্ঠ করা যাবেনা। বাঙালি জাতির মুক্তির মহানায়ক জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে তখন জেগে উঠেছে পুরো জাতি, আর জাগ্রত বাঙালিকে দাবিয়ে রাখার ক্ষমতা নেই পৃথিবীর কোনো শোষক গোষ্ঠীর। ফলশ্রুতিতে পাকিস্তানি স্বৈরশাসনের অবসান অনিবার্য হয়ে উঠে। কিন্তু এই পরাজয়কে তারা সহজভাবে মেনে নিতে পারেনি।

বাঙালির এই জাগরণে বুদ্ধিজীবীদের অসামান্য ভূমিকা ছিলো। যেকোনো হীন চক্রান্তের বিরুদ্ধে তাঁরা বারবার উচ্চকিত হয়েছেন, অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছেন জন সাধারণকে। পাকিস্তানিরা যেহেতু তাদের আসন্ন পরাজয় টের পেয়েছিলো, শেষ মুহূর্তে নৃশংসভাবে তারা তাদের হীন চক্রান্ত হাসিল করতে চেয়েছিলো। ২৫ শে মার্চ কালো রাত থেকেই সাধারণ মানুষের পাশাপাশি ঘাতক দালালরা দেশের বরেণ্য ব্যক্তিবর্গকে নির্মমভাবে হত্যা করতে থাকে। তবে পাকিস্তানিদের আত্মসমর্পণের ঠিক দুইদিন আগে ১৪ ডিসেম্বর, ১৯৭১ যে বিভিৎস-নারকীয়-পাশবিক হত্যাকাণ্ড চালায় তা পৃথিবীব্যাপী শান্তিকামী মানুষকে স্তম্ভিত করে দেয়।

যুদ্ধকালীন সময়ে পৃথিবী জুড়ে বুদ্ধিজীবী নিধনের বিভিন্ন ইতিহাস থাকলেও ১৪ ডিসেম্বরের মতো একদিনে এতো বুদ্ধিজীবী হত্যার মতো ঘটনা ঘটেনি। ১৪ ডিসেম্বর রাতে পাকিস্তানী বাহিনী তাদের দেশীয় দোসর রাজাকার, আলবদর ও আল শামস বাহিনীর সহায়তায় দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তানদের নিজ নিজ গৃহ হতে তুলে এনে নির্মম নির্যাতনে হত্যার পর জাতিকে মেধাশূণ্য করার যে ঘৃণ্য অপচেষ্টা চালিয়েছিলো তাদের উত্তরসূরিরা আজো এদেশে তৎপর। ইতিহাসকে কলুষিত ও বিকৃত করে, প্রজন্মকে ভুল শিক্ষা দিয়ে তারা ক্ষমতায় আসতে চেয়েছে, হত্যা-লুণ্ঠন-ধর্ষণের মাধ্যমে অস্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিবেশে নিজেদের ফায়দা লুঠতে চেয়েছে বারবার।

সংখ্যাগরিষ্ঠ জাগ্রত বাঙালি ৭১ সালেই যে বর্বরদের ছুঁড়ে ফেলেছে তাদের সামনে জিঘাংসার পথ ছাড়া আর কোনো পথ খোলা ছিলোনা। তারা স্বার্থ হাসিলে কতোটা নিচে নামতে পারে, কতোটা অমানুষ হতে পারে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস আমাদের বারবার তা মনে করিয়ে দেয়। সময় এসেছে দেশকে মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষ শক্তি থেকে পুরোপুরি মুক্ত করে শান্তি ও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নেয়ার। শহীদ বুদ্ধিজীবীদের সন্তানদের মতোই নতুন প্রজন্মেরও দাবী- এদেশের রাষ্ট্র ক্ষমতায় আর যেন কখনো স্বাধীনতা বিরোধী অপশক্তি না আসতে পারে এবং সেই অপশক্তি আর কখনো যেন পবিত্র পতাকাকে খামচে ধরতে না পারে সেজন্য আগামী ৩০ ডিসেম্বর আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও উন্নয়নের প্রতীক বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের পক্ষে নৌকা প্রতীকে রায় দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তির বিজয় নিশ্চিত করবে ইনশাআল্লাহ।

লেখক: ডা. মো. সাইফ জামান আনন্দ (এম.বি.বি.এস, এম.ফিল গবেষক) সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শাখা