• Monday, December 16, 2019

বাংলাদেশের বাজার রাশিয়া

  • Nov 01, 2018

বাংলাদেশের সঙ্গে রাশিয়া তথা এককালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের সুসম্পর্ক ও সৌহার্দ্য দীর্ঘদিনের। একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধে রাশিয়ার অকুণ্ঠ সমর্থন ও সহযোগিতা সর্বদাই বাংলাদেশ স্মরণ করে থাকে কৃতজ্ঞতার সঙ্গে। সেই সম্পর্ক অদ্যাবধি অটুট। বর্তমানে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুতকেন্দ্রসহ কয়েকটি বড় প্রকল্পে আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা প্রদান করছে রাশিয়া। সার্বিক অবস্থার প্রেক্ষাপটে দু’দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে সম্পর্ক আরও জোরদারের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ। এরই অংশ হিসেবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিবের (রফতানি) নেতৃত্বে বিশ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল বর্তমানে মস্কো সফররত। শুল্কমুক্ত সুবিধার আওতায় বাংলাদেশী পণ্যের বিশাল সম্ভাবনা খতিয়ে দেখাই তাদের লক্ষ্য। এর জন্য বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করতে গঠিত হবে যৌথ বাণিজ্য কমিশন। লেনদেনের সুযোগ তৈরি ও সহজ করার জন্য রুশ ফেডারেশনের ব্যাংকগুলোর সঙ্গেও যোগাযোগ করা হবে। এর ফলে সরাসরি ব্যবসা-বাণিজ্য করা সম্ভব হবে আগামীতে।

বাংলাদেশ ও রাশিয়ার মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বাড়ানোর জন্য সরাসরি ব্যাংকিং লেনদেন চালুর উদ্যোগটি নিঃসন্দেহে ইতিবাচক। এর জন্য সরকার ইতোমধ্যে দু’দেশের মধ্যে পণ্য রফতানি ও আমদানির ক্ষেত্রে যেসব সমস্যা বিদ্যমান সেগুলো চিহ্নিত করা শুরু করেছে। দেশটির সঙ্গে বাণিজ্য সম্প্রসারণে ফ্রি ট্রেড এগ্রিমেন্ট বা মুক্তবাণিজ্য চুক্তি করার দাবি করেছে কমনওয়েলথ অব ইন্ডিপেনডেন্ট স্টেটস এবং বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স এ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এসব নিয়ে কাজও শুরু করে দিয়েছে। রাশিয়ার পক্ষ থেকেও পাওয়া গেছে ইতিবাচক সাড়া। মনে রাখতে হবে যে, রাশিয়া বিশ্বের বৃহত্তম দেশ এবং সর্বাধিক পরিমাণে তেল, গ্যাস, খনিজসম্পদ, কৃষি ও বনসম্পদে সমৃদ্ধ এবং উন্নত। একই সঙ্গে পরাশক্তি তো বটেই।

বর্তমানে দু’দেশের বাণিজ্য ঘাটতির পরিমাণ বিপুল ও বৈষম্যমূলক। দেশটির সঙ্গে বাংলাদেশের ৭৬টি বাংলাদেশী পণ্যের শুল্কমুক্ত সুবিধা থাকলেও খুব কম পণ্যই সে দেশে প্রবেশাধিকারের সুযোগ পায় রফতানিতে উচ্চ শুল্ক আরোপের কারণে। বেশিরভাগ বাংলাদশেী পণ্যে রাশিয়া অন্য দেশের তুলনায় বেশি শুল্ক আরোপ করে থাকে। তৈরি পোশাক ছাড়া উল্লেখ করার মতো পণ্যের সংখ্যাও কম। তদুপরি সরাসরি কোন ব্যাংকিং চ্যানেলসহ রুবলের সঙ্গে লেনদেনের প্রচলনও নেই। রুশ ভাষাও একটা সমস্যা বৈকি।

উল্লেখ্য, চীনের পর বাংলাদেশ বিশ্বে দ্বিতীয় বৃহত্তম পোশাক রফতানিকারক দেশ। আর বাংলাদেশের পোশাকের তৃতীয় বৃহত্তম বাজার রাশিয়া। প্রায় এক বিলিয়ন ডলারের পোশাক রফতানির বাজার রয়েছে দেশটিতে। তবে পণ্য রফতানিতে জিএসপি সুবিধা না থাকায় বাংলাদেশী পোশাক রাশিয়ায় যাচ্ছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ব্র্যান্ডিংয়ের মাধ্যমে। ফলে স্বভাবতই বাংলাদেশ বঞ্চিত হচ্ছে ন্যায্যমূল্য ও মুনাফা থেকে। বেশিরভাগ চলে যাচ্ছে ইইউর পকেটে। সরাসরি ব্যাংকিং চ্যানেলসহ এফটিএ করা হলে আগামীতে এই অনাকাক্সিক্ষত পরিস্থিতির অবসান হতে পারে। সেক্ষেত্রে জিএসপি সুবিধাসহ ঢাকা-মস্কো সরাসরি ব্যাংকিং চ্যানেল চালু হলে দেশটিতে রফতানির পরিমাণ কয়েকগুণ বাড়বে নিঃসন্দেহ। গত বছর ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলার উদ্বোধন করতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশী উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীদের প্রতি রফতানি তথা বাণিজ্য বৃদ্ধির জন্য বহির্বিশ্বে নতুন দেশ খোঁজা এবং নতুন পণ্য তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। আপাতত রাশিয়া হতে পারে সেই কাক্সিক্ষত দেশ। আর রাশিয়ার মাধ্যমে সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নভুক্ত ১২টি দেশের জোট কমনওয়েলথ অব ইন্ডিপেনডেন্ট স্টেটসের বাজারেও প্রবেশের সুযোগ রয়েছে। ব্যাংকিং চ্যানেলসহ এফটিএ স্বাক্ষরিত হলে বাংলাদেশী উৎপাদক ও রফতানিকাররা সেই সুযোগ নেবেন বলেই প্রত্যাশিত।

প্রকাশিত : ২ নভেম্বর ২০১৮