• Sunday, June 16, 2024

চাঁপাইনবাবগঞ্জে বেপরোয়া এনজিওর সুদের কারবার

  • Sep 15, 2018

Spread the love

৥মৌখিক সমর্থন দিচ্ছে বা নিবন্ধন পেতে সহযোগিতা দিচ্ছে সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের জনৈক সচিব৥

ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রমে ভরে গেছে জেলা। কিন্তু কোন প্রতিকার নেই। হঠাৎ করে সমাজসেবা দফতর থেকে নিবন্ধন নেবার হিড়িক পড়েছে। পুরো জেলায় এখন পর্যন্ত ৫৩০টি নিবন্ধনকৃত সমিতি রয়েছে। আরও শতাধিক দরখাস্ত একই বিভাগে পড়ে রয়েছে নিবন্ধন নেবার জন্য। এই ধরনের হিড়িক পড়েছিল একবার জামায়াত নেতা মুজাহিদ সমাজ কল্যাণমন্ত্রী থাকাকালে।
 
সমপরিমাণ এনজিও রয়েছে জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলসহ জেলা শহর পর্যন্ত। এরা গজিয়ে উঠেছে সমবায়সহ বিভিন্ন সরকারী প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন নিয়ে। গজিয়ে ওঠা এইসব এনজিও প্রতিষ্ঠানের মূল লক্ষ্য হচ্ছে টাকা ধার দিয়ে সুদের ব্যবসা করা। একটি প্রতিষ্ঠানের জরিপে ওঠে এসেছে জেলার সহ¯্রাধিক সমাজকল্যাণসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন নিয়ে গড়ে উঠা এনজিও প্রতিমাসে প্রায় ৩০ কোটি টাকার উর্ধে সুদ আদায় করছে প্রতি মাসে। এই সব প্রতিষ্ঠানে সুদের বিনিময়ে টাকা নেবার সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্য বিদেশ যাবার নামে টাকা নিচ্ছে।
 
আগে গ্রাম্য মহাজনেরা সুদের ব্যবসা করত। এখন বৈধতা পেয়ে বিভিন্ন সরকরী প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন নিয়ে সুদের ব্যবসা করছে। শিবগঞ্জের সীমান্ত এলাকা, নাচোল, গোমস্তাপুরের প্রত্যন্ত বরেন্দ্র অঞ্চল, ভোলাহাট উপজেলাসহ সদর উপজেলার অসংখ্য এনজিও সুদের জমজমাট ব্যবসা করছে প্রকাশ্যে।
 
ক্ষুদ্র ঋণের আওতায় এই ব্যবসা। সমাজসেবার নিবন্ধন নেই এমন অনেক সংস্থাও চালিয়ে যাচ্ছে সুদের ব্যবসা। জেলা সমাজসেবা অফিস সূত্রে জানা গেছে জেলায় নিবন্ধনকৃত ৫৩৩টি এনজিও থাকলেও নিবন্ধন নেই এমন অনেক সংস্থা বিভিন্ন কৌশলে সুদের ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। দেখার কেউ না থাকার কারণে আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। ফলে আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের বদলে ঘটছে উল্টো ঘটনা। চলছে এনজিও মালিকদের বেপরোয়া সুদের কারবার। ক্ষুদ্রঋণের আওতায় জেলার কয়েক কোটি মানুষ।
 
বিশেষ করে নিবন্ধন নেবার সময় সমাজ কল্যাণকে লিখিতভাবে বলে থাকে তারা ক্ষুদ্রঋণ পরিচালনা করবে না। একই সংস্থা জয়েন্ট স্টক এ্যাক্সচেঞ্জ বা অন্য কোন মন্ত্রণালয় থেকে নিবন্ধন নিয়ে ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। স্ববিরোধী কার্যক্রম বন্ধ করার ভূমিকা নেই সংশ্লিষ্ট অধিদফতরের। যথাযথ আইন ও লোকবলের অভাবে তদারকি সম্ভব হচ্ছেনা বলে বলেন জেলা সমাজসেবা অধিদফতর।
 
তাদের ভাষ্য হচ্ছে কোন এনজিও ক্ষুদ্রঋণ পরিচালনা করলে তাদের শাস্তি পেতে হবে। প্রশাসনের নজর এড়াতেই স্বেচ্ছাশ্রমের নামে আলাদা সংস্থার কাছ থেকে নিবন্ধন নিয়ে এনজিওগুলো মাঠ পর্যায়ে কাজ করছে।
 
বিভিন্ন এনজিওর বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাত ও অনিয়মের অভিযোগ থাকলেও তাদের বিরুদ্ধে কেউ কাজ করছে না। নামে-বেনামে গজিয়ে উঠা এসব সংস্থা বিভিন্ন সময় গ্রাহকদের ফাঁদে ফেলে বিশেষ কৌশলে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। এমনি একটি এনজিও বিসিডিপি। তারা চাকরি দেবার নামে দেড় শ’ নারীর ১৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নিলেও প্রতিকার পাচ্ছে না। গোদাগাড়ী অঞ্চলে একই স্টাইলে কয়েক কোটি টাকা বাগিয়ে গা-ঢাকা দিয়েছে।
 
তাদের পরিচালিত কার্যক্রমে ছিল, লাখে ৩২ হাজার টাকা সুদ। এরা ক্ষুদ্রঋণের আওতায় প্রতিমাসে কিস্তি পরিশোধ করে। এসব মহিলার অনেকেই বিধবা অথবা স্বামী পরিত্যক্তা খুবই গরিব। বিভিন্ন এনজিও এইসব মহিলাকে টার্গেট করে ক্ষুদ্রঋণের নামে টাকা ধার দিয়ে অধিক সুদে মাসিক কিস্তি আদায় করে। একমাস কিস্তি দিতে না পারলে সেই টাকা সুদে আসলে দ্বিগুন হয়ে যায়। এইভাবে প্রত্যন্ত অঞ্চলে পুরো জেলা মিলিয়ে প্রায় ২০ লাখ গরিব নারী এই ক্ষুদ্রঋণের আওতায় থেকে কিস্তির নামে কোটি কোটি টাকা সুদ দিচ্ছে। কিন্তু তাদের ভাগ্যের পরিবর্তন হচ্ছে না।
 
এখানে উল্লেখ্য যে, সন্ত্রাসের জনপদ শিবগঞ্জের প্রত্যন্ত অঞ্চলে সমাজ কল্যাণের নিবন্ধন নিয়ে এরা সুদের ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। এদের সংখ্যা ৫ হাজারের অধিক। এদের মৌখিক সমর্থন দিচ্ছে বা নিবন্ধন পেতে সহযোগিতা দিচ্ছে সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের জনৈক সচিব। সে শিবগঞ্জ এলাকার অধিবাসী হওয়ায় এই কাজ করছে। অনেকের অভিমত ভবিষ্যতে তিনি জাতীয় সংসদ নির্বাচন করতে চাচ্ছেন।  -সূত্র : দৈনিক জনকন্ঠ