• Thursday, June 13, 2024

নয়াপল্টনে নাশকতায় হেলমেটধারীসহ গ্রেফতার ৬

  • Nov 20, 2018

Spread the love

রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে পুলিশের ওপর হামলা ছিল পূর্বপরিকল্পিত। পূর্বপরিকল্পনার অংশ হিসেবে বিএনপির কয়েকজন শীর্ষ নেতা হামলাকারী বিএনপি ও দলটির অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের হেলমেট পরিধান করে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। যাতে হামলার পর হামলাকারীদের আর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী শনাক্ত করতে না পারে। আর পূর্বপরিকল্পনার অংশ হিসেবে ঘটনাস্থলের আশপাশে আগে থেকেই লাঠিগুলো মজুদ করে রাখা হয়েছিল। হামলার মূল উদ্দেশ্য ছিল পুলিশকে উস্কানি দেয়া। যাতে পুলিশ হামলাকারীদের ওপর নির্বিচারে লাঠিচার্জ, টিয়ারশেল নিক্ষেপ, রাবার বুলেট ও গুলি চালায়। আর পুলিশের হামলার ছবিকে পুঁজি করে বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের নির্বাচনকালীন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি দেখিয়ে একটি ইমেজ তৈরি করা যায়। এমন ছবি দেখিয়ে রাজনৈতিক দলটি মূলত ফায়দা লোটার চেষ্টা করেছিল।

ঘটনার দিন পুলিশের ওপর হামলা, পুলিশের গাড়ি ভাংচুরের পর তাতে আগুন ধরিয়ে দিয়ে উল্লাস প্রকাশ করা বহুল আলোচিত লাল হেলমেট পরিহিত সেই যুবকসহ ছয়জন ডিবির হাতে গ্রেফতার হয়েছে। গ্রেফতারকৃতরা সবাই ছাত্রদলের নেতা। তাদের জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে এমন তথ্যই জানালেন ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার মনিরুল ইসলাম। গ্রেফতারকৃতদের ৫ দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছে আদালত।

মঙ্গলবার ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশের কাউন্টার টেররিজম এ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের প্রধান ডিআইজি মনিরুল ইসলাম এসব কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, গত ১৪ নবেম্বর দুপুরে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ আশপাশের এলাকায় পুলিশের ওপর আচমকা হামলা চালানোর ঘটনা ঘটে। হামলায় ৩০ জন পুলিশসহ অন্তত অর্ধশত মানুষ আহত হন। হামলাকারীরা পুুলিশের একটি পিকআপ ও একটি প্রাইভেটকার পুড়িয়ে দেয়। অল্পের জন্য ভাংচুর ও আগুনের কবল থেকে রক্ষা পায় পুলিশের একটি এপিসি। ওই ঘটনায় দায়েরকৃত ৩টি মামলায় বিএনপি নেতা মীর্জা আব্বাস ও তার স্ত্রীসহ বেশ কয়েকজন বিএনপির সিনিয়র নেতাকে আসামি করা হয়। আসামিদের মধ্যে মীর্জা আব্বাস ও তার স্ত্রী উচ্চ আদালত থেকে আগাম জামিনে রয়েছেন। অপর আসামিদের মধ্যে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা নিপুণ রায় চৌধুরীসহ ৭২ জনকে গ্রেফতার হয়। যাদের মধ্যে ডিবির হাতে গ্রেফতারকৃত ৭ জনকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে রয়েছে।

প্রসঙ্গত, সংঘর্ষের পরদিন আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হোসেন আলী নামে একজনের ছবি দেখিয়ে বলেন, নাশকতার জন্য আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগ নেতারা দায়ী। সুপরিকল্পিতভাবে হেলমেটধারীরা পুলিশের গাড়িতে আগুন দিয়েছে। যারা আগুন দিয়েছে তারা পুলিশের প্রটেকশনে এই নাশকতার কাজ করেছে। তারা ছাত্রলীগ ও যুবলীগের ঢাকা মহানগরের নেতা।

বিষয়টি সম্পর্কে মনিরুল ইসলাম বড় পর্দায় ভাংচুরের ছবি দেখিয়ে বলেন, নয়া পল্টনে সংঘর্ষের সময় পুলিশের গাড়িতে ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগে জড়িত ছয়জন গ্রেফতার হয়েছে। গ্রেফতারকৃতরা সবাই ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী। হেলমেট পরিহিত যে যুবক পুলিশের গাড়িতে আগুন দেয়ার পর পোড়া গাড়ির ওপর উঠে উল্লাস প্রকাশ করেছিল গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে সেই যুবকও আছেন। ছবিটি বিভিন্ন গণমাধ্যম ও ফেসবুকে ভাইরাল হয়ে পড়েছিল। তার নাম মোঃ এইচ কে হোসেন আলী। তিনি বিএনপি নেতা মির্জা আব্বাসের অনুসারী। শাহজাহানপুর রেলওয়ে কলোনির বাসিন্দা হোসেন ১১ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের সভাপতি পদ প্রত্যাশী। আর পুলিশের গাড়ি ভাংচুর করার পর শার্টের সব কটি বোতাম খুলে যে যুবক উল্লাস প্রকাশ করে ব্যাপক আলোচনায় এসেছিলেন তার নাম সোহাগ ভূঁইয়া। তিনি ঢাকার শাজাহানপুর থানা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক। ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতা আব্বাস আলীও গাড়ি ভাংচুরের পর শার্ট খুলে উল্লাস প্রকাশ করেছিলেন। তার ছবিও বিভিন্ন গণমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছিল। আর পুলিশের পিকআপে যে যুবক প্রথম লাঠি দিয়ে আঘাত করে ভাংচুর শুরু করেছিলেন তার নাম আশরাফুল ইসলাম রবিন। তিনি ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক। তার ছবিও বিভিন্ন গণমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছিল। এ ছাড়া একভাবে গাড়িতে ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করে আলোচনায় এসেছিলেন গ্রেফতারকৃত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন উজ্জল ও সরকারী তিতুমীর কলেজ শাখা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি মাহবুবুল আলম।

এই ছয় জন হামলাকারীকে সোমবার বিকেলে রাজধানীর সূত্রাপুর এলাকা থেকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় মামলাটির তদন্তকারী সংস্থা ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের পূর্ব বিভাগ। যে যুবক পুলিশের এপিসিতে আগুন ও ভাংচুর চালানোর চেষ্টা করেছিল তাকেও শনাক্ত করা হয়েছে। তবে তাকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

মনিরুল ইসলাম বলেন, বর্তমানে পুলিশ নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে কাজ করতে বাধ্য। ঘটনার দিন পল্টনে প্রচুর পুলিশ মোতায়েন ছিল। যে পরিমাণ লোক সমাগম হয়েছিল তা মাত্র ৫ থেকে ৭ মিনিটে ছত্রভঙ্গ করে দেয়া সম্ভব ছিল। সেদিন পুলিশ কোন এ্যাকশনে যায়নি। যদি যেত তাহলে ৫ থেকে ১০ মিনিটে সবাইকে সরিয়ে দেয়া সম্ভব ছিল। শুধুমাত্র নির্বাচনী পরিবেশ স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ সেদিন যথেষ্ট ধৈর্যের পরিচয় দিয়েছে।

মনিরুল ইসলাম আরও জানান, মোহাম্মদপুরে নির্বাচনী প্রচারণার সময় দুই যুবকের মৃত্যুর ঘটনা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ওই ঘটনায় একজন গ্রেফতার হয়েছিল তিনি জামিনে ছাড়া পেয়েছেন। সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার কৃষ্ণ পদ রায়, ডিবির যুগ্ম কমিশনার মাহবুবুর রহমান, আব্দুল বাতেন, ডিবির পূর্ব বিভাগের উপকমিশনার মোহাম্মদ নরুন্নবী ও ডিএমপির মিডিয়া বিভাগের উপকমিশনার মাসুদুর রহমান উর্ধতন পুলিশ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আমাদের কোর্ট রিপোর্টার জানান, গ্রেফতারকৃতদের মঙ্গলবার ঢাকার সিএমএম আদালতে সোপর্দ করে ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের উপ-পরিদর্শক কামরুল ইসলাম। শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম দেবব্রত বিশ্বাস আসামিদের প্রত্যেককে পাঁচ দিন করে রিমান্ডে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

প্রকাশিত : ২১ নভেম্বর ২০১৮