রাজশাহী বিভাগে হামে আক্রান্ত সংখ্যা বাড়ছে: এক মাসে ১২ শিশুর মৃত্যু
- Mar 29, 2026
চলতি মাসে রাজশাহীজুরে হামে আক্রান্ত হয়ে অন্তত ১২ শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। সবশেষ বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) রাজশাহী মেডিকেলে চিকিৎসাধীন চার শিশুর মধ্যে তিন জন মারা গেছে।
বেঁচে থাকা শিশুটিকেও গত শনিবার বিকেলে আইসিইউতে নেওয়া হয়েছে। এছাড়া হামে আক্রান্ত আরও তিন শিশুকে আইসিইউতে নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।
ছোঁয়াচে এই রোগের সংক্রমণ বেশি ছড়িয়ে পড়েছে রাজশাহী অঞ্চলের পাবনা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও রাজশাহী জেলায়। রোগটি অত্যন্ত ছোঁয়াচে হলেও রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সাধারণ রোগীদের সঙ্গেই হাম আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ফলে সংক্রমণ ভয়াবহ রূপ নেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
হাসপাতালের তথ্য মতে, মার্চ মাসজুড়ে রামেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন হাম আক্রান্ত যে ১২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তার মধ্যে আইসিইউতে নেওয়ার পর মৃত্যু হয়েছে ৯ জনের। বাকি তিন শিশু আইসিইউতে নেওয়ার আগেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে।
রাজশাহী বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয় সূত্র বলছে, বিশ স্বাস্থ্য সংস্থার সহায়তায় গত ১৮ মার্চ রাজশাহীতে ১৫৩ রোগীর নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে ৪৪ জনের হাম পজিটিভ ধরা পড়ে।
খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, মার্চের শুরু থেকে ২৬ মার্চ পর্যন্ত রাজশাহী অঞ্চলের হাম আক্রান্ত ৮৪ রোগীকে আইসিইউতে নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছিল।
এদিকে শনিবার (২৮ মার্চ) সকাল পর্যন্ত পাবনায় হাম আক্রান্ত ২৬ শিশু হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তবে পাবনায় এখন পর্যন্ত হাম আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি। এছাড়া চাঁপাইনবাবগঞ্জে গত তিন মাসে হাম আক্রান্ত ৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ হাসপাতালের শিশু ও নবজাতক বিভাগের কনসালট্যান্ট মাহফুজ রায়হান জানান, শনিবার সকাল পর্যন্ত হাসপাতালে ৭০ শিশু ভর্তি থাকলেও বিকেলে ২০ জনকে ছুটি দেওয়া হয়েছে।
হামে আক্রান্ত নিহত শিশুর স্বজনরা জানিয়েছেন, রাজশাহী মেডিকেলে চিকিৎসাধীন জহির, হুমায়রা, হিয়া ও জান্নাতল মাওয়াকে আইসিইউতে নেওয়ার জন্য সুপারিশ করা হয়েছিল। এর মধ্যে শুক্রবার মারা গেছে জহির, হুমায়রা ও হিয়া।
শিশু হিয়ার পিতা রিফাত হোসেন জানান, তার শিশু সন্তানকে আইসিইউতে নেওয়ার জন্য চেষ্টা করেও লাভ হয়নি। আইসিইউ পাওয়ার আগেই তার বুকের ধন পৃথিবী ছেড়ে চলে যায়।
হামে আক্রান্ত শিশু জান্নাতুল মাওয়ার পিতা হৃদয় জানান, অনেক চেষ্টা আর অপেক্ষার পর তার মেয়েকে শনিবার আইসিইউতে নেওয়া হয়েছে। আশেপাশের শিশুদের মৃত্যু দেখে তিনিও ভেঙে পড়েছেন।
রাজশাহী মেডিকেলের শিশু বিভাগের প্রধান শাহিদা ইয়াসমিন হাম আক্রান্ত রোগীদের নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। হাসপাতালের পরিচালকও ফোন ধরেননি। তবে হাসপাতালের মুখপাত্র শঙ্কর কে বিশ্বাস বলেন, হামের রোগীদের নিয়ে তারা বৈঠক করেছেন। ‘সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে’ প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় সেখানে রোগী পাঠানো সম্ভব হয়নি। তাছাড়া শনিবার থেকে হাসপাতালের ২৪ ও ১০ নম্বর ওয়ার্ড হাম আইসোলেশন কর্নার করা হয়েছে।
শনিবার বিকেলে সরেজমিনে গিয়ে, হাসপাতালের ২৪ নম্বর ওয়ার্ডে হাম আইসোলেশন কর্নার পাওয়া যায়নি। তবে ১০ নম্বর ওয়ার্ডে ডায়রিয়া ও ডেঙ্গু কর্নারের সাইনবোর্ডের সঙ্গে হাম কর্নার লেখা দুটি কাগজ রয়েছে। এই কর্নারের রোগীর স্বজনেরা বলেন, ডায়রিয়া নিয়ে তারা শিশুদের ভর্তি করেছেন।
এদিকে ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের বারান্দায় শিশুকে নিয়ে ভর্তি মোহাম্মদ ওয়াসিম বলেন, তিন দিন আগে তার শিশুকে ঠান্ডাজনিত রোগ নিয়ে ভর্তি করিয়েছিলেন। একই ওয়ার্ডে হাম আক্রান্ত অনেক শিশুই ভর্তি রয়েছে। এই তিন দিনে তার শিশুও হাম রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়েছে।
রাজশাহী বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক হাবিবুর রহমান বলেন, হাম আক্রান্ত শিশুদের পরিস্থিতি দেখতে পাবনা গিয়েছিলেন তিনি। তার মতে, পাবনা ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের অবস্থা বেশি খারাপ। হাম ছড়িয়ে পড়ায় বিভাগীয়সহ সব জেলা সদর হাসপাতাল ও উপজেলা হাসপাতালগুলোয় তিনি নির্দেশনা দিয়েছেন। চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও পাবনায় আক্রান্ত রোগীদের আলাদা করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তবে তিনি রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাননি।
