• Saturday, December 5, 2020

প্রথিতযশা নাট্যকার ‘অধ্যাপক মমতাজউদদীন আহমদ’ গুরুতর অসুস্থ

  • Oct 16, 2018

মাহবুবুল ইসলাম ইমন : 

প্রখ্যাত নাট্যকার ও কথাশিল্পী, চাঁপাইনবাবগঞ্জের কৃতি সন্তান ‘অধ্যাপক মমতাজ উদদীন আহমদ’ গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে আইসিইউতে রয়েছেন।

ফুসফুসের সংক্রমণ ও অ্যাজমার সমস্যায় দীর্ঘদিন ধরে ভুগতে থাকা এই গুণি মানুষের শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে সোমবার রাতে তাঁকে ঢাকার অ্যাপোলো হাসপাতালে নেওয়া হয়।

পারিবারিক সূত্রে জানাগেছে,  চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে বর্তমানে আইসিইউতে রাখা হয়েছে। দীর্ঘ দিন থেকে ফুসফুসের সংক্রমণ ও অ্যাজমার সমস্যায় ভুগছেন তিনি। কিছু দিন ধরেই শ্বাস-প্রশ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছিল তাঁর। সোমবার বিকালের দিকে একেবারেই শ্বাস নিতে পারছিলেন না। পরে তাঁকে ঢাকার অ্যাপোলোতে আনা হয়। চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে যতটুকু জানা গেছে, হি ইজ নট আউট অব ডেঞ্জার।

মমতাজউদদীনের দুই ছেলেই থাকেন যুক্তরাষ্ট্রে। বাবার অসুস্থতার খবর শুনে দুজনই দেশে এসেছেন।

সংস্কৃতি মন্ত্রী ও বরেণ্য অভিনেতা আসাদুজ্জামান নূরসহ দেশের প্রগতিশীল বুদ্ধিজীবি, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব এবং আওয়ামীলীগের শীর্ষ পর্যায়ের ব্যক্তিরা নাট্যকার মমতাজ উদ্দীনের শারিরীক অবস্থা ও চিকিৎসার খোঁজ-খবর রাখছেন প্রতিনিয়ত।

প্রথিতযশা নাট্যকার, কথাশিল্পী, ভাষাসৈনিক প্রফেসর মমতাজউদদীন আহমদ ১৯৩৫ সনে ১৮ জানুয়ারী তৎকালীন মালদহ জেলা (চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও ভারতের কিছু অংশ) অর্থাৎ চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাট উপজেলার উত্তর কোনে হাবিবপুর থানার আইহো গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম কলিমুদ্দিন আহমদ। ১৯৪৭ এর দেশ-বিভাগের পর চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাট উপজেলার কানারহাট গ্রামে তাঁরা স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। প্রফেসর মমতাজউদদীন মালদাহ জেলা স্কুল, ভোলাহাট রামেশ্বর পাইলট ইনস্টিটিউশন এবং রাজশাহী সরকারি কলেজে লেখাপড়া করেন।  

রাজশাহী সরকারি কলেজে পড়ার সময়ই রাষ্ট্রভাষার আন্দোলনে যুক্ত হন তিনি।তৎকালীন রাজশাহীর তুখোর ছাত্রনেতা ও ভাষাসৈনিক এ্যাডভোকেট গোলাম আরিফ টিপুর (চাঁপাইনবাবগঞ্জের কৃতি সন্তান, বর্তমানে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটার) সান্নিধ্যে ছাত্র রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়ে দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে ভাষার দাবিতে আন্দোলন সংগঠনে তিনি ভূমিকা পালন করেন।

১৯৫২ এর ২১ ফেব্রুয়ারির রাতে রাজশাহী সরকারি কলেজের মুসলিম হোস্টেলের ইট কাদামাটি দিয়ে যে শহীদ মিনার গড়ে উঠেছিল, তাতে মমতাজউদদীন ও ভূমিকা রেখেছিলেন। তখন জেল খেটেছেন একাধিকবার।

কর্মজীবনে মমতাজ উদদীন চট্টগ্রাম সরকারি কলেজ ও পরে ঢাকা ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা ও সংগীত বিভাগে অধ্যাপনা করেন।

জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যসূচি প্রণয়ন কমিটিতে একজন উচ্চতর বিশেষজ্ঞ হিসেবে দায়িত্ব পালন ছাড়াও বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির গবেষণা ও প্রকাশনা বিভাগের পরিচালক ছিলেন তিনি।

তাঁর লেখা নাটক ‘কী চাহ শঙ্খচিল’ এবং ‘রাজার অনুস্বারের পালা’ কলকাতার রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্য তালিকাভুক্ত হয়েছিল।

নাট্যচর্চায় অবদানের জন্য তিনি একুশে পদক পান ১৯৯৭ সালে। এছাড়াও তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার, শিশু একাডেমি পুরস্কার, আলাউল সাহিত্য পুরস্কারসহ অসংখ্য পুরস্কার জিতে নিয়েছেন।

তাঁর রচিত নাটকগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘নাট্যত্রয়ী’, ‘হৃদয়ঘটিত ব্যাপার স্যাপার, ‘স্বাধীনতা আমার স্বাধীনতা’, ‘জমিদার দর্পণ’, ‘সাত ঘাটের কানাকড়ি’।

নিয়মিত চিত্রনাট্য রচনা ছাড়াও তার প্রকাশিত গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে ‘বাংলাদেশের নাটকের ইতিবৃত্ত’, ‘বাংলাদেশের থিয়েটারের ইতিবৃত্ত’, ‘নীলদর্পণ’ (সম্পাদনা), ‘সিরাজউদ্দৌলা’ (সম্পাদনা) প্রভৃতি।