• Saturday, October 24, 2020

দেশে করোনা আক্রান্ত ১৬,৬৬০ : সুস্থ হয়েছেন ৩,১৪৭ জন

  • May 12, 2020

দেশে করোনা আক্রান্ত ১৬ হাজার ৬৬০ জন। গত ২৪ ঘন্টায় নতুন করে শনাক্ত হয়েছেন ৯৬৯ জন। এ পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন ৩ হাজার ১৪৭ জন। ২৪ ঘন্টায় সুস্থ হয়েছেন ২৪৫ জন। একই সময় ১১ জন করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। এ নিয়ে ২৫০ জন মারা গেছেন।
আজ দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদফতরের করোনাভাইরাস সংক্রান্ত নিয়মিত অনলাইন হেলথ বুলেটিনে অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা এসব তথ্য জানান।
গতকালের চেয়ে আজ ৬৫ জন কম আক্রান্ত হয়েছেন। গতকাল আক্রান্ত হয়েছিলেন ১ হাজার ৩৪ জন।
ডা.নাসিমা সুলতানা জানান, ‘করোনাভাইরাস শনাক্তে গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে ৬ হাজার ৮৪৫টি। আগের দিন নমুনা সংগ্রহ হয়েছিল ৭ হাজার ২৬৭টি। নমুনা সংগ্রহ আগের দিনের চেয়ে ৪২২টি কম। গত ২৪ ঘন্টায় নতুন করে নোয়াখালী সায়েন্স এন্ড টেকনোলজি ইউনিভার্সিটিসহ দেশের ৩৮টি পরীক্ষাগারে নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ৬ হাজার ৭৭৩টি। আগের দিন নমুনা পরীক্ষা হয়েছিল ৭ হাজার ২০৮টি। গতকালের চেয়ে নমুনা পরীক্ষা ৪৩৫টি কম। এ পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ১ লাখ ৩৬ হাজার ৬৩৮টি।
তিনি জানান, গত ২৪ ঘন্টায় মৃত্যুবরণকারী ১১ জনের মধ্যে ৭ জন পুরুষ ও ৪ জন নারী। এর মধ্যে ঢাকা মহানগরীতে ৫, নারায়ণগঞ্জে ২, নরসিংদীর ১, চট্টগ্রাম বিভাগে ২ এবং সিলেট বিভাগে ১ জন রয়েছেন। বয়স বিশ্লেষণে দেখা যায়, এদের মধ্যে ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে ৩, ৬১ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে ৫, ৭১ থেকে ৮০ বছরের মধ্যে ২ এবং ৮১ থেকে ৯০ বছরের মধ্যে ১ জন রয়েছেন।’
অতিরিক্ত মহাপরিচালক জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশনে রাখা হয়েছে ১৫২ জনকে। বর্তমানে আইসোলেশনে আছেন ২ হাজার ৩৬১ জন। ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশন থেকে ছাড় পেয়েছেন ৬৭ জন, এখন পর্যন্ত ছাড় পেয়েছেন ১ হাজার ২৫৬ জন। সারাদেশে মোট আইসোলেশন শয্যা রয়েছে ৮ হাজার ৬৩৪টি। ঢাকা শহরের বিভিন্ন হাসপাতালে রয়েছে ৫ হাজার ৭৩৪টি এবং ঢাকা মহানগরীতে ২ হাজার ৯শ’টি। আরও শয্যা তৈরির কাজ চলছে। আইসিইউ শয্যা রয়েছে ৩২৯টি, ডায়ালাইসিস ইউনিট রয়েছে ১০২টি। আইসিইউ এবং ডায়ালাইসিস ইউনিট সংখ্যা বাড়ানোর প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
তিনি জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় প্রাতিষ্ঠানিক ও হোম কোয়ারেন্টিন মিলে কোয়ারেন্টিন করা হয়েছে ১ হাজার ৬৬৬ জনকে। এখন পর্যন্ত ২ লাখ ২৫ হাজার ৮৪ জনকে কোয়ারেন্টিন করা হয়েছে। কোয়ারেন্টিন থেকে গত ২৪ ঘণ্টায় ছাড় পেয়েছেন ৩ হাজার ৬৫ জন, এখন পর্যন্ত মোট ছাড় পেয়েছেন ১ লাখ ৭৯ হাজার ৬৯৯ জন। বর্তমানে কোয়ারেন্টিনে আছেন ৪৫ হাজার ৩৮৫ জন।
সারাদেশের ৬৪ জেলা এবং সেখানকার উপজেলায় প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে ৬১৫টি প্রতিষ্ঠান। এর মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে ৩০ হাজার ৯৫৫ জনকে কোয়ারেন্টিন সেবা দেয়া যাবে বলে তিনি জানান।
অতিরিক্ত মহাপরিচালক জানান, কেন্দ্রীয় ঔষধাগার থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী গত ২৪ ঘন্টায় ব্যক্তিগত সুরক্ষা সামগ্রী (পিপিই) সংগ্রহ হয়েছে ২৪ হাজার ৯২২টি। বিতরণ হয়েছে ৩ হাজার ৯২০টি। এ পর্যন্ত সংগ্রহ ২১ লাখ ৫৭ হাজার ২৪৭টি। বিতরণ হয়েছে ১৭ লাখ ৪৬ হাজার ৮৪৬টি। বর্তমানে ৪ লাখ ৯ হাজার ৪০১টি পিপিই মজুদ রয়েছে।
তিনি জানান, গত ২৪ ঘন্টায় হটলাইন নম্বরে ১ লাখ ৩৫ হাজার ১৮টি এবং এ পর্যন্ত প্রায় ৪৯ লাখ ২৮ হাজার ৫৩০টি ফোন কল রিসিভ করে স্বাস্থ্য সেবা ও পরামর্শ দেয়া হয়েছে।
তিনি জানান, করোনাভাইরাস চিকিৎসা বিষয়ে এ পর্যন্ত ১৫ হাজার ৭২১ জন চিকিৎসক অনলাইনে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন। ২৪ ঘন্টায় আরও ১৪ জন চিকিৎসক প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। এদের মধ্যে ৪ হাজার ৭০ জন স্বাস্থ্য বাতায়ন ও আইইডিসিয়ার’র হটলাইনগুলোতে স্বেচ্ছাভিত্তিতে সপ্তাহে ৭ দিন ২৪ ঘন্টা জনগণকে চিকিৎসাসেবা ও পরামর্শ দিচ্ছেন।
ডা.নাসিমা সুলতানা জানান, দেশের বিমানবন্দর, স্থল, নৌ ও সমুদ্রবন্দর দিয়ে গত ২৪ ঘন্টায় ৭১৩ জনসহ সর্বমোট বাংলাদেশে আগত ৬ লাখ ৮৩ হাজার ৭৯৯ জনকে স্কিনিং করা হয়েছে।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি জানান, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ১১ মে পর্যন্ত রিপোর্ট অনুযায়ী ২৪ ঘন্টায় দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ৫ হাজার ৫৬৭ জন। এ পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন ১ লাখ ৮৮১ জন। ২৪ ঘন্টায় মারা গেছেন ১২৫ জন এবং এ পর্যন্ত৩ হাজার ৪৮১ জন।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ১১ মে পর্যন্ত রিপোর্ট অনুযায়ী সারাবিশ্বে ২৪ ঘন্টায় করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ৮৮ হাজার ৮৯১ জন। এ পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন ৪০ লাখ ৬ হাজার ২৫৭ জন। ২৪ ঘন্টায় মারা গেছেন ৪ হাজার ৫৩১ জন এবং এ পর্যন্ত ২ লাখ ৭৮ হাজার ৮৯৩ জন।
করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে সকলকে স্বাস্থ্যবিধি যথাযথভাবে মেনে চলতে তিনি সকলের প্রতি আহবান জানান।
করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে সবাইকে ঘরে থাকা, রমজানে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা, বেশি বেশি পানি ও তরল জাতীয় খাবার, ভিটামিন সি ও ডি সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া, ডিম, মাছ, মাংস, টাটকা ফলমূল ও সবজি খাওয়াসহ শরীরকে ফিট রাখতে নিয়মিত হালকা ব্যায়াম এবং স্বাস্থ্য অধিদফতর ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শ-নির্দেশনা মেনে চলার অনুরোধ জানানো হয়।