• Saturday, December 5, 2020

যথাযোগ্য মর্যাদায় জাতীয় শোক দিবস পালন

  • Aug 16, 2020

নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে যথাযোগ্য মর্যাদায় জাতীয় শোক দিবস পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে আলোচনা সভা, পুষ্পস্তবক অর্পণ, কালো ব্যাজ ধারণ, জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন, কাঙালি ভোজ, দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়। দিবসটিতে রাজধানীর ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু জাদুঘরের সামনে এবং গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় শোকার্ত মানুষের ঢল নামে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে ভোর থেকেই আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক-সাংস্কৃতিক ও বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মানুষজন বঙ্গবন্ধু ভবনের সামনের রাস্তায় জমায়েত হতে থাকে।

বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় জাতীয় শোক দিবসের কর্মসূচি। সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। প্রতিকৃতির বেদিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণের পর তিনি সেখানে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রীকে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর একটি সুসজ্জিত চৌকস দল গার্ড অব অনার প্রদান করেন, তখন বেজে উঠে বিউগলের করুণ সুর। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের নির্মম ঘটনায় নিহতদের স্মরণে অনুষ্ঠিত বিশেষ মুনাজাতে এ সময় অংশগ্রহণ করেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে স্মৃতিবিজড়িত বঙ্গবন্ধু ভবনের ভেতরে প্রবেশ করেন। সেখানে ঘুরে ঘুরে তার পিতার স্মৃতিচিহ্ন পরিদর্শন করেন এবং সেখানে প্রায় আধাঘণ্টা সময় কাটান তিনি। প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুর স্মৃতিবিজড়িত ভবনের ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের কালোরাতে যে সিঁড়িতে বঙ্গবন্ধুর লাশ পড়েছিল সেখানে গোলাপের পাপড়ি ছিটিয়ে দেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন তার কন্যা সায়মা ওয়াজেদ হোসেন পুতুল। এরপর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ধানমন্ডি থেকে বনানী কবরস্থানে যান। সেখানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব, ভাই শেখ কামাল, শেখ জামাল ও শেখ রাসেলসহ ১৫ আগস্টের নির্মম ঘটনায় নিহতদের কবরে শ্রদ্ধা জানান। পরে সেখানে তিনি দোয়া ও মুনাজাতে অংশ নেন। বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদন পর স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী, ডেপুটি স্পিকার মো: ফজলে রাব্বী মিয়া ও চিফ হুইপ নূর-ই আলম চৌধুরীসহ মন্ত্রীপরিষদের সদস্যরা বঙ্গবন্ধুর প্রতি ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

প্রধানমন্ত্রী স্থান ত্যাগ করার পরই আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় আরো উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী, ড. আব্দুর রাজ্জাক, জাহাঙ্গীর কবির নানক ও আবদুর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ, ড. হাছান মাহমুদ ও আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক বি এম মোজাম্মেল হক ও আহমদ হোসেন প্রমুখ। এছাড়াও বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও ১৪ দলের নেতৃবৃন্দ বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

ভোরে বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউস্থ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ দলীয় সকল কার্যালয়ে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয় এবং কালো পতাকা উত্তোলন করা হয়। সূর্যোদয়ের সাথে সাথে সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বেসরকারি ভবন ও বিদেশস্থ বাংলাদেশ মিশনসমূহে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়। বাংলাদেশ বেতার এবং বাংলাদেশ টেলিভিশনে শোক দিবসের বিভিন্ন অনুষ্ঠানমালা সরাসরি সম্প্রচারসহ বিশেষ অনুষ্ঠানমালা প্রচার এবং সংবাদপত্রসমূহ বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করে।

প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু ভবন ত্যাগ করার পরই সকলের শ্রদ্ধা জানানোর জন্য স্থানটি উন্মুক্ত করে দেয়া হয়। জাতীয় শোক দিবসে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠন এবং সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান।