বৃহত্তর রাজশাহী অঞ্চলের শিল্প ও কৃষিভিত্তিক উন্নয়নে মতবিনিময় সভা
- Apr 11, 2026
রাজশাহী অঞ্চলের বিপুল সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে শিল্পায়নের পাশাপাশি কৃষিভিত্তিক উন্নয়নে জোর দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।
তিনি বলেছেন, এ অঞ্চলের কৃষি উৎপাদনকে কেন্দ্র করে শিল্প গড়ে তোলা গেলে রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও নাটোরের অর্থনীতিতে নতুন গতি সঞ্চার হবে।
শুক্রবার (১০ এপ্রিল) দুপুরে রাজশাহী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সভায় রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও নাটোর জেলার ব্যবসায়ী, কৃষি উদ্যোক্তা ও জনপ্রতিনিধিরা অংশ নেন। তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর ও রেহান আসিফ আসাদ।
সভায় বক্তারা উত্তরাঞ্চলের শিল্পোন্নয়নের প্রধান বাধা হিসেবে গ্যাস সংকটের বিষয়টি তুলে ধরেন। তাদের বক্তব্যে উঠে আসে, গ্যাসের অভাবে সম্ভাবনাময় শিল্পখাত স্থবির হয়ে আছে, নতুন বিনিয়োগ আসছে না এবং প্রস্তুত প্রকল্পও চালু করা যাচ্ছে না। এতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও আঞ্চলিক অর্থনীতির বিকাশ ব্যাহত হচ্ছে।
রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন বলেন, রাজশাহীতে বিসিক-২ প্রকল্প প্রস্তুত থাকলেও গ্যাস সংযোগ না থাকায় সেটি চালু করা যাচ্ছে না। দ্রুত গ্যাস সংযোগ নিশ্চিত করা গেলে শিল্পায়নের গতি বাড়ানো সম্ভব হবে।
রাজশাহীর জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম বলেন, রাজশাহী অঞ্চলের উন্নয়নে শিল্প ও কৃষি—এই দুই খাতকে সমান গুরুত্ব দিয়ে এগিয়ে নিতে হবে। তিনি বলেন, এ অঞ্চলে কৃষিভিত্তিক শিল্প স্থাপনের ব্যাপক সুযোগ রয়েছে। গ্যাস, অবকাঠামো ও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে স্থানীয় সম্পদ ও উৎপাদনকে কাজে লাগিয়ে উত্তরাঞ্চলে টেকসই অর্থনৈতিক অগ্রগতি অর্জন সম্ভব হবে।
নাটোর জেলা পরিষদের প্রশাসক রহিম নেওয়াজ বলেন, নাটোর বিসিক এলাকায় গ্যাস সংযোগ নেই, যদিও শহরের পাশ দিয়েই গ্যাসের লাইন রয়েছে। গ্যাসের অভাবে সেখানে বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠছে না। নাটোর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক মতিউর হমান বলেন, গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত হলে নাটোরের চামড়া শিল্প স্বনির্ভর হয়ে উঠতে পারবে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি আব্দুল ওয়াহেদ বলেন, গ্যাস সংকটের কারণে জেলায় বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠেনি।
অন্যদিকে পর্যাপ্ত হিমাগার না থাকায় প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ আম নষ্ট হচ্ছে, যা স্থানীয় অর্থনীতিতে বড় ধরনের ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, সমতাভিত্তিক আঞ্চলিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে। তিনি বলেন, রাজশাহী অঞ্চলের কৃষির বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। এখানকার চাহিদা পূরণ করে উদ্বৃত্ত পণ্য উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে। কৃষিকে ঘিরে শিল্প গড়ে তুলতে পারলে এ অঞ্চল দ্রুত এগিয়ে যাবে। সরকারও সেই লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ বলেন, প্রত্যেক অঞ্চলের নিজস্ব বৈশিষ্ট্যকে কাজে লাগিয়েই সুষম উন্নয়ন সম্ভব। উত্তরাঞ্চলের উন্নয়ন নিয়ে সরকার কাজ করছে এবং পিছিয়ে পড়া এই অঞ্চলকে উন্নয়নের মূলধারায় আনতে নানা উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
রাজশাহী জেলা প্রশাসন আয়োজিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন বিভাগীয় কমিশনার ড. আ.ন.ম বজলুর রশীদ। সভায় বক্তব্য দেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক হারুনুর রশীদ, রাজশাহী জেলা পরিষদের প্রশাসক এরশাদ আলী ঈশা, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মো. ফরিদুল ইসলাম, রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার ড. জিললুর রহমান, জেলা প্রশাসক রাজশাহী কাজী শহিদুল ইসলাম, জেলা প্রশাসক নাটোর আসমা শাহীন, জেলা প্রশাসক চাঁপাইনবাবগঞ্জ আবু ছালেহ মো. মুসা জঙ্গী, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাঈমুল হাছানসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী ও কৃষি উদ্যোক্তারা।
এর আগে সকালে দুই উপদেষ্টা রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলায় বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। এ সময় তারা ভগবন্তপুর এলাকায় পদ্মা নদীর পাড়, সরমংলা এলাকার কৃষি কার্যক্রম এবং কলিপুর এলাকায় সৌরবিদ্যুতের মাধ্যমে পরিচালিত সেচ কার্যক্রম ঘুরে দেখেন।
