সেবার মনোভাব বাদ দিয়ে শাসকের রূপ নিলে কঠোর ব্যবস্থা : ভূমিমন্ত্রী
দুর্নীতিমুক্ত ও জনবান্ধব অটোমেটেড (স্বয়ংক্রিয়) ভূমিসেবা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু। তিনি বলেন, সেবার মনোভাব বাদ দিয়ে যদি কেউ শাসকের মনোভাব পোষণ করেন, তবে তার বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) বিকেলে রাজধানীর তেজগাঁওয়ের ভূমি ভবনের সভাকক্ষে ‘ভূমিসেবা মেলা’র সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
ভূমিমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা সব ভূমিসেবা বিষয়ে সচেতনতা তৈরিতে কাজ করছি। ভূমি মন্ত্রণালয় একটি জনসেবামূলক প্রতিষ্ঠান। এটি যেন মানুষের কাছে আরো গ্রহণযোগ্য হয়, সে জন্য আমরা সব ধরনের কার্যক্রম হাতে নিয়েছি।
সারা দেশে আয়োজিত ভূমিসেবা মেলার প্রভাব উল্লেখ করে মো. মিজানুর রহমান মিনু বলেন, ‘এই মেলার মধ্য দিয়ে দেশে একটি ব্যাপক জাগরণ সৃষ্টি হয়েছে। যারা ফড়িয়া (দালাল) এবং যারা মন্ত্রণালয়ের ভেতরে বা বাইরে থেকে দুর্নীতির চেষ্টা করে, তাদের পরিষ্কার বার্তা দেওয়া হয়েছে জনগণের ভূমিসেবা সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গেই নিশ্চিত করা হবে।’
ভূমিমন্ত্রী বলেন, ‘ভূমিসংক্রান্ত মামলার জট কমাতে দ্রুতই জাতীয় সংসদে একটি বিল আনা হবে। আমরা ভূমির সব সেবা একটি ছাতার নিচে নিয়ে আসতে কাজ করছি।
দেশের সার্বভৌমত্ব ও পররাষ্ট্রনীতি প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ‘এ দেশের মানুষ সব সময় নিজেদের জমিজমা ও পরিবার রক্ষা করতে দখলদারদের প্রতিহত করেছে। বিদেশিদের মধ্যে আমাদের কোনো প্রভু নেই, সবাই আমাদের বন্ধু। এ দেশের জনগণের জন্য যা ভালো হবে, আমরা সেই ব্যবস্থাই নেব।’
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এ এস এম সালেহ আহমেদ বলেন, ‘ভূমির জটিল সমস্যাগুলো একদিনে সমাধান করা সম্ভব নয়। তবে একটি টেকসই ও আধুনিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে কাজ চলছে।
ভূমি ব্যবস্থাপনাকে সম্পূর্ণ আধুনিক ও জনবান্ধব করতে অটোমেশন প্রকল্প দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে। এই স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতি পুরোপুরি চালু হলে সেবা প্রাপ্তি আরো সহজ, স্বচ্ছ ও দুর্নীতিমুক্ত হবে।’সিনিয়র সচিব আরো বলেন, দেশের ৬১টি জেলায় ভূমি ভবনের নাগরিক সেবা কেন্দ্রের মতো দ্রুতই আধুনিক নাগরিক সেবা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করা হবে।
অনুষ্ঠানে ভূমি মন্ত্রণালয়, ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তর এবং ভূমি ব্যবস্থাপনা অটোমেশন প্রকল্পের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সমাপনী অনুষ্ঠান শেষে মেলায় অংশ নেওয়া স্টলগুলোর মধ্য থেকে সেরা ৩টি স্টলকে পুরস্কৃত করা হয় এবং অন্য অংশগ্রহণকারীদের হাতে সার্টিফিকেট তুলে দেওয়া হয়।