• Wednesday, June 12, 2024

চাঁপাইনবাবগঞ্জে মানবাধিকারের দুর্নীতি-মাদক ও সন্ত্রাস বিরোধী সম্মেলন

  • Nov 23, 2018

Spread the love

নিজস্ব প্রতিনিধি : দুর্নীতি, মাদক ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে গনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষে চাঁপাইনবাবগঞ্জে মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা “মানবাধিকার” এর সম্মেলণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা “মানবাধিকার” চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শাখার আয়োজনে গতকাল শুক্রবার সকালে কল্যানপুর হর্টিকালচার সেন্টারে এ সম্মেলণ অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান ড. বখতিয়ার আহমেদ।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী ও সেন্টার ফর হিউম্যান রাইটস্ মুভমেন্টের চেয়ারম্যান ড. মো. জিয়াউর রহমান। মানবাধিকার চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শাখার সহ-সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহা. ইব্রাহিমের সভাপতিত্বে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন, সংস্থাটির জেলা শাখার সহ-সভাপতি ও শংকরবাটি হেফজুল উলুম এফকে কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ড. মোহা. এমরান হোসেন।

এসময় বক্তব্য দেন, নবাবগঞ্জ সরকারি কলেজের ইংরেজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অজিত কুমার রায়, নাটোর সদর উপজেলা শাখার সাধারন সম্পাদক অ্যাড. আব্দুল ওযাহাব, নাচোল উপজেলার সাধারন সম্পাদক হেলাল উদ্দীন, গোমস্তাপুর উপজেলার আশরাফুল ইসলাম, শিবগঞ্জ উপজেলার প্রকৌশলী আব্দুল জাব্বার।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন, রাজশাহী জেলা প্রেসক্লাবের সাধারন সম্পাদক আসলাম-উদ-দৌলা, নাচোল মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ অসিত কুমার সাহা, বালুগ্রাম আদর্শ কলেজের অধ্যক্ষ মতিউর রহমানসহ সাংবাদিকবৃন্দ ও জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে আসা সংস্থার সদস্যবৃন্দ। সম্মেলনের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ছিলেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. মোয়াজ্জেম হোসেন মেহেদী।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান ড. বখতিয়ার আহমেদ বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৪৭ বছরে অনেকগুলো গুরুত্বপূর্ণ অর্জন রয়েছে। এই মূহুর্তে বাংলাদেশ এমন একটি অবস্থায় রয়েছে, যার একদিকে রয়েছে অপার সম্ভাবনা এবং অপরদিকে আছে অনেকগুলো বড় বড় আশঙ্কা। সম্ভাবনার মধ্যে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, ক্রিকেটের অর্জন, নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবন বা রাস্তাযাটের অবকাঠামোগত উন্নয়ন না। সবচেয়ে বড় সম্ভাবনার যে জায়গা, সেটি হচ্ছে এদেশের তরুন সমাজ। তরুন সমাজকে বড় সম্ভাবনা বলার কারন হচ্ছে, ২০১১ সালের আদমশুমারী অনুসারে শতকার ৩৪ ভাগের বয়স ছিল ১৪-৩৪ বছর। অর্থাৎ মূল কর্মশক্তির মধ্যে। বর্তমানে মোট জনসংখ্যার এক-তৃতীয়াংশেরই বয়স ১৪-৩৪ বছরের মধ্যে। পৃথিবীতে খুব কম দেশ রয়েছে, যেখানে তরুন জনগোষ্ঠীর সংখ্যা এত বেশি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কয়েকশ বছরের মধ্যে একবারই একটি জাতির মধ্যে এমনটা দেখা যেতে পারে। যারা দেশের জন্য অনেকগুলো সম্ভাবনা নিয়ে দাড়িয়ে আছে। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় আমাদের এই তরুন সমাজ রয়েছে হুমকির মধ্যে। গত ১০ বছরে শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা দ্বিগুন হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ২০১৮ সালেই হতাশায় আতœহত্যা করেছে ৮ জন। এই অমৃত সম্ভাবনা নিয়ে আমরা যে সংকটের মধ্যে রয়েছি সেটা খুবই ভয়ংকর। আজকের এই সম্মেলন সমাজের জন্য হুমকি দুর্নীতি, মাদক ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে গনেসচেতনতা সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী ও সেন্টার ফর হিউম্যান রাইটস্ মুভমেন্টের চেয়ারম্যান ড. মো. জিয়াউর রহমান বলেন, মানবাধিকারের প্রত্যেকটা কর্মী একেটা সৈনিকের মতো। তারা সকলে মিলে সংগঠিত হলে দেশে কোন অবিচার-অনাচার থাকতে পারে না। যেখানেই মানবাধিকার লূন্ঠিত হবে, সেখানেই তারা ঝাঁপিয়ে পড়বে।

বিকেলে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে সম্মেলনের সমাপ্তি ঘটে। এর আগে সকাল ১০টায় জেলা আইনজীবী সমিতি কার্যালয়ের সামনে থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালী শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে একই স্থানে এসে শেষ হয়।