• Sunday, June 16, 2024

চাঁপাইনবাবগঞ্জে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর : পুলিশ সুপারের উদ্যোগে সফলতা

  • Oct 03, 2018

Spread the love

ডি এম কপোত নবী : অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশে প্রতি বছর সড়কে ঝড়ে পড়ছে হাজার হাজার প্রাণ। সড়ক দুর্ঘটনায় প্রতিনিয়ত অসহায় হয়ে পড়ছে হাজার হাজার পরিবার। রাস্তায় শুধু মাত্র চালকের কারণে নয় সচেতনতার অভাবেও অহরহ ঘটছে দুর্ঘটনা। পেপার পত্রিকা খুললেই চোখে পড়ে লশের খবর। সরকার তথা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বদা চেষ্টা করে চলেছেন যাতে সড়কে দুর্ঘটনা না ঘটে।

সড়ক দুর্ঘটনা রোধে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা পুলিশ ও ট্রাফিক পুলিশ সর্বদা নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন মাঠে। প্রতিদিন তাঁদের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলে মানুষ কিছুটা হলেও নিয়মের মধ্যে এসে যানবাহন নিয়ে রাস্তায় নামছেন। চাঁপাইনবাবগঞ্জের পুলিশ সুপার টি এম মোজাহিদুল ইসলাম বিপিএম ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাহবুব আলম খান পিপিএমকেও রাস্তায় অবৈধ যানবাহনের বিরুদ্ধে কাজ করতে দেখা যাচ্ছে। প্রতিদিন অবৈধ যানবাহন আটক, চালকের বিরুদ্ধে মামলা, ড্রাইভিং লাইসেন্স আছে কিনা চেক করা, হেলমেট পরে মোটরসাইকেল চালাচ্ছে কিনা সেটাও মনিটরিং করা হচ্ছে। শহরের বিশ্বরোড মোড়ে ট্রাফিকদের জন্য নির্মাণ করা হয়েছে ট্রাফিক বক্স। সে মোড়ে বসানো হয়েছে সিসি ক্যামেরা।

 

বর্তমানে প্রতিদিন শহরের বিশ্বরোড মোড়, শান্তি মোড়, শিবতলা মোড়, শহীদ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দীন জাহাঙ্গীর বীরশ্রেষ্ঠ সেতুর টোল ঘর, বারঘোরিয়া চত্বর, ফায়ার সার্ভিস মোড়, নয়াগোলা মোড়, কোট চত্বও ছাড়াও বিভিন্ন স্থানে পুলিশের ট্রাফিক সার্জেন্ট তপ্ত রোদ কিংবা ঝড়বৃষ্টি উপেক্ষা করে রাস্তায় নিজ দায়িত্ব নিরলস ভাবে পালন করে যাচ্ছেন।

এরি মাঝে পুলিশ সুপার টি এম মোজাহিদুল ইসলাম বিপিএম জেলার সকল পেট্টোল পাম্প মালিকদের সাথে বসে আলোচনা করেছেন। সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যে কোন তেলের পাম্পে যেন বিশেষ করে মোটরসাইকেলের ক্ষেত্রে হেলমেট পরিহিত ছাড়া তেল বিক্রি বন্ধ করেছেন। কোন পাম্প যদি হেলমেট ছাড়া তেল দেয় তাহলে সে পাম্পের বিরুদ্ধে কঠোর আইনের ব্যবস্থাও করা হয়েছে। ইতোমধ্যে এর সুফল লক্ষ করা গেছে। শহরের বেশকিছু পেট্টোল পাম্পে গিয়ে দেখা যায় হেলমেট ছাড়া তেল দিতে অপারোগ প্রকাশ করছেন পাম্পের স্টাফবৃন্দ। শুধু তাই নয় প্রত্যেকটা মানুষকে সচেতনও করছে তারা হেলমেট ব্যবহারের জন্য।

আজ শহরের বেশিরভাগ মোটরসাইকেল চালককে হেলমেট পরে মোটরসাইকেল চালাতে দেখা যাচ্ছে। সঙ্গে রাখছে ড্রাইভিং লাইসেন্স, গাড়ির সঠিক কাগজপত্র। অনেক মোটরসাইকেল চালকের সাথে কথা বলে জানা গেছে, সকলে এক যোগে নিয়ম মানলে অবশ্যই সবাই হেলমেট পরেই মোটরসাইকেল চালাবে। সঠিক নিয়ম সবার জন্য। হ্যাঁ কিছু কিছু পাম্পে তেল বিক্রির ক্ষেত্রে কৌশলও অবলম্বন করা হচ্ছে। যেমন পাম্পের কিছু দুরে রাখা হচ্ছে হেলমেট। তেল নিতে যাবার সময় সে হেলমেট দেয়া হচ্ছে তেল নেবার জন্য। তেল নেয়া শেষ হলে আবার ঘুরে সে হেলমেট জমা দিতেও দেখা গেছে। পুশিরে কন্ট্রোল রুম সার্বক্ষণীক মনিটরিং করছে প্রত্যেকটা পাম্পের। যেন তারা নিয়ম মেনে তেল বিক্রি করে। কিছু কিছু পাম্পে হেলমেট দিয়ে টাকা নেবারও অভিযোগ রয়েছে। প্রত্যেকটা পাম্পে জেলা পুলিশের নির্দেশনা মূলক স্টিকারও লাগানো হয়েছে মানুষকে সচেতন করার জন্য।

এ তো গেল পাম্পের হিসেব। এবার আসা যাক মফস্বল কিংবা আঞ্চলিক এলাকার কথা। সে সব এলাকাতে দিব্যি প্রকাশ্যে এখনও খোলা তেল বিক্রি করছে। এসব তেল তারা কোন না কোন পেট্টোল পাম্প থেকে কিনেই লোকালভাবে বিক্রি করা হচ্ছে। সে ক্ষেত্রে চালক হেলমেট ব্যবহার করছে কিনা সেটা তারা দেখেও না, মানেও না। অনেকের অভিযোগ এরি মাঝে আসছে যে. পাম্পে তেল বিক্রি বন্ধ করা হলেও খোলাভাবে তেল বিক্রির কারণে এখনও বহু মানুষ হেলমেট ব্যবহারে আগ্রহী হচ্ছে না। এর কারণ সে অনাএসেই তেল পাচ্ছে সে সব খোলা দোকানে। এ-সব খোলা দোকানে তেল তখনি বিক্রি করা বন্ধ হবে যখন পেট্টোল পাম্পগুলো বোতল, জারকিন কিংবা ড্রামে তেল বিক্রি বন্ধ করবে।

ট্রাফিক সার্জেন্টরা বিভিন্ন স্পটে হেলমেট না থাকলে মামলা দিচ্ছে। ড্রাইভিং লাইসেন্স না থাকলেও মামলা দিচ্ছে। প্রতিদিন শতাধিক মামলা হচ্ছে বিভিন্ন যানবাহনের বিরুদ্ধে। আবার অনেক সময় ট্রাফিক সাজেন্টের সাথে বাকবিতন্ডাতেও জড়িয়ে পড়তে দেখা যাচ্ছে। সার্জেন্ট আলিম, সার্জেন্ট কামরুল ইসলামসহ বেশ কয়েকজন সার্জেন্ট জানান, আমরা যথেষ্ঠ মানুষকে সচেতন করছি। সঠিক নিয়ম মেনে রাস্তায় যাবাবন চালাতে বলছি। রাস্তায় অপ্রাপ্ত বয়স্ক চালকদেরকেও বুঝাচ্ছি আমরা।

সে সব চালকদের গার্জেনদের ডেকে সতর্ক করছি যেন পরিপূর্ণ বয়স না হলে যেন কচি হাতে যানবাহনের চাবি তুলে দেয়া না হয়। আপনারা জানেন এরি মাঝে পুলিশ সুপার টি এম মোজাহিদুল ইসলাম বিপিএিম এর নির্দেশনায় জেলার প্রতিটি মোড়ে নিরাপত্তার স্বার্থে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, বিপনি বিতান, ব্যাংক, স্কুল কলেজসহ বিভিন্ন স্থানে সিসি ক্যামেরা দিয়ে মনিটরিং করা হচ্ছে। রাত ৮ টার পর শিক্ষার্থীদের বাড়ির বাইরে না যাবার জন্য অভিভাবকদের সতর্ক করা হয়েছে। এ-সবের একটাই কারণ হচ্ছে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি যেন ভাল থাকে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা আগে থেকেই অনেক শান্তিপূর্ণ এলাকা। আগে দিয়ার এলাকা কিংবা মর্দনা গ্রামে মারামারি হত বেশি। দিনেদুপুরে মার্ডার হবারও ঘটনা ঘটত। বৃষ্টির মত ফুটত বোমা। সে সব এলাকা আজ শান্ত। বোমার রাজ্য ক্ষ্যাত মর্দনা গ্রাম আজ শান্ত। সেখানে আর কোন খুনোখুনি নেই, নেই বোমার বিকট আওয়াজ। পুলিশ সুপার টি এম মোজাহিদুল ইসলামের প্রচেষ্টায় সে সব সন্ত্রাসী এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকান্ড বন্ধ হয়েছে। জেলায় মোবাইল ফোন চুরির বিষয়টিও এখন নেই বললেই চলে। এর অন্যতম কারণ হচ্ছে জেলা পুলিশের চৌকশ আইটি অফিসারদের তৎপরতা। এরি মাঝে বেশ কিছু পুলিশ অফিসারকে আইটি বিষয়ে ঢাকা থেকে বিশেষ ট্রেনিং নিয়ে এসে কাজ করছেন। যার ফলশ্রুতিতে ভাল ফলও পাওয়া যাচ্ছে।

সামনে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বর্তমানে জেলার পুলিশ সর্বদা এল্যার্ট রয়েছে। বারবার অভিযান চালিয়ে গোটা চাঁপাইনবাবগঞ্জে এরি মাঝে বহু মাদকদ্রব্য উদ্ধার ও ধ্বংস করা হয়েছে। বাকী যারা রয়েছেন তাদেরও ধরতে এবং ব্যবসা বন্ধ করতে প্রতিনিয়ত জেলা গোয়েন্দা পুলিশ, পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি নিরলস কাজ করে চলেছেন। র‌্যাবের হাতে এরি মাঝে বেশ কিছু অবৈধ অস্ত্র ব্যবসায়ীকে আটক করা হয়েছে।

সীমান্ত এলাকা চাঁপাইনবাবগঞ্জ হওয়াতে আগা গোড়াই এ এলাকা দিয়ে চোরাকারবারিদের অগাদ যাতায়াত রয়েছে। অবৈধ ব্যবসার রুট হিসেবেও এ এলাকাকে ব্যবহার করে আসছে চোরাকারবারিরা। হলি আর্টিজেন এর অস্ত্রের চালান এই চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্ত দিয়েই রাজধানী ঢাকায় গিয়েছিল তার প্রমানও পাওয়া গেছে। কাজেই সীমান্ত এলাকা হওয়াতে প্রতিটি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সজাগ থেকে নিজ নিজ স্থান থেকে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভেতরেও মাঝ মাঝে কালো টাকার লোভে কিছু সদস্য বিপথে পা বাড়ায়। কিন্তু তারা বেশিদিন টিকতে পারেনি তার নজিরও রয়েছে। কিছুদিন আগেই মাদকবদ্রব্যর কারণে ২ জন পুলিশের সদস্যকে ক্লোজ করা হয়েছে। আইনের আওতায় এনে তাদের শাস্তিও দেয়া হবে অভিযোগ প্রমানিত হলে।

প্রাচীন গৌড়ের রাজধানী, আমের রাজধানী এ চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা। বহু নিদর্শন লুকিয়ে রয়েছে এ জেলায়। ইতিহাসে বহু ঘটনা লেখা রয়েছে চাঁপাইনবাবগঞ্জকে নিয়ে। সে জেলাতে তো ভালমন্দ থাকবেই সেটাই স্বাভাবিক। সমাজের সূধী মহল মনে করেন, ভালোর পরে যেমন খারাপ আছে ঠিক তেমনি খারাপের পর ভালোও রয়েছে। বর্তমানে খারাপের পাল্লাটা খুব বেশি ভারি না। যার অন্যতম কারণ সঠিক রাষ্ট্র পরিচালনা, সঠিক দেশ পরিচালনা। যা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকার করে চলেছেন। দেশ আজ মধ্যমআয়ে উপনিত হয়েছে। উন্নতির ছোঁয়ায় সমৃদ্ধি হচ্ছে লাখ লাখ রক্তের বিনিময়ে দাম দিয়ে পাওয়া প্রিয় বাংলাদেশ। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বাংলাদেশ আজ মাথা উঁচু করে বিশ্বের দরবারে নিজের স্থান দখল করে নিয়েছেন।

লেখক : ডি এম কপোত নবী
স্টাফ রিপোর্টার দৈনিক গৌড় বাংলা ও
বার্তা সম্পাদক দৈনিক আলোকিত চাঁপাইনবাবগঞ্জ।